
নিউজ ডেস্ক (চট্টগ্রাম)
আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে ব্যর্থতার দায় সরকারকেই নিতে হবে বলে মন্তব্য করেছেন জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় কর্মপরিষদ সদস্য ও চট্টগ্রাম মহানগরীর আমির মুহাম্মদ নজরুল ইসলাম।
তিনি বলেন, নগরীতে নিষিদ্ধ ঘোষিত সংগঠনের ঘন ঘন ঝটিকা মিছিল এবং সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তাদের অপতৎপরতা উদ্বেগজনক হারে বৃদ্ধি পেয়েছে। সাম্প্রতিক সময়ে জিইসি মোড়, দুই নম্বর গেট, নাসিরাবাদসহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ স্থানে ঝটিকা মিছিল অনুষ্ঠিত হয়েছে। এমনকি কিছু জানাজাতেও ‘জয় বাংলা’ স্লোগান উচ্চারিত হয়েছে এবং পলাতক ফ্যাসিস্ট শেখ হাসিনার প্রত্যাবর্তনের দাবিতে ব্যানার-ফেস্টুন প্রদর্শন করা হয়েছে।
শনিবার (৬ জুন) সন্ধ্যা ৭টায় চট্টগ্রাম মহানগরী জামায়াতের কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত মহানগরীর কর্মপরিষদ বৈঠকে সভাপতির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
নজরুল ইসলাম বলেন, পলাতক নেতাদের ফেসবুকসহ বিভিন্ন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এসব মিছিলের ভিডিও ছড়িয়ে পড়ায় জনমনে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন সৃষ্টি হয়েছে। মিছিল-পরবর্তী গ্রেফতার ও মামলা দায়েরের পরিবর্তে গোয়েন্দা তথ্য সংগ্রহ ও প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা জোরদার করাই সময়ের দাবি। পাশাপাশি, পরিচয় বদলে সরকারি দলে অনুপ্রবেশকারী এবং রাজনৈতিক ও ব্যবসায়িক স্বার্থে ফ্যাসিস্টদের সঙ্গে সখ্য গড়ে তোলা ব্যক্তিদের বিষয়ে সতর্ক থাকারও আহ্বান জানান তিনি।
তিনি আরও বলেন, জঙ্গল ছলিমপুরে সন্ত্রাসীদের রাস্তা কেটে দেওয়া এবং যৌথ বাহিনীর ক্যাম্প গুঁড়িয়ে দেওয়ার ঘটনা সরাসরি রাষ্ট্রব্যবস্থাকে চ্যালেঞ্জ করার শামিল। এরই মধ্যে নগরীতে রাজনৈতিক ও ব্যক্তিগত বিরোধকে কেন্দ্র করে একাধিক চাঞ্চল্যকর হত্যাকাণ্ড ও সহিংসতার ঘটনা ঘটেছে।
তিনি উল্লেখ করেন, গত ৮ মে নগরের রৌফাবাদ এলাকার শহীদ মিনার গলিতে মো. হাসান প্রকাশ রাজু (২৪) নামের এক যুবক ব্রাশফায়ারে নিহত হন এবং রেশমা নামের এক কিশোরী গুলিবিদ্ধ হয়ে পরে মৃত্যুবরণ করেন। এর আগে সাগরিকা বিটাক বাজার এলাকায় আকাশ দাশ নামে এক যুবককে ছুরিকাঘাতে হত্যা করা হয়। পাঁচলাইশ এলাকায় শাহাদাত হোসেন নামে এক যুবককে পিটিয়ে হত্যার ঘটনাও ঘটে।
মুহাম্মদ নজরুল ইসলাম বলেন, শহীদ আইনজীবী সাইফুল ইসলাম আলিফ হত্যাকাণ্ডের মামলার অগ্রগতিও আশানুরূপ নয়। একইভাবে শহীদ ওয়াসিম আকরাম, ফয়সল আহমদ শান্ত ও ফারুক হোসেন হত্যার আসামিরা এখনো গ্রেফতার হয়নি। ফয়েজলেক, সিটি কলেজ ও সেগুনবাগানে সংঘটিত সন্ত্রাসী হামলার অভিযুক্তদের বিরুদ্ধেও কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়নি।
তিনি বলেন, নগরীতে চাঁদাবাজি এবং নিরীহ ব্যবসায়ীদের হয়রানির ঘটনাও উদ্বেগজনক। কোরবানির পশুর হাটে ক্রেতা-বিক্রেতা উভয়কে হয়রানি করা হয়েছে এবং চামড়ার বাজার ধসিয়ে দেওয়ায় এতিম, মিসকিন ও দুস্থ জনগোষ্ঠী সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।
তিনি আরও বলেন, রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর স্থানীয় পর্যায়ে প্রভাব বিস্তার ও অভ্যন্তরীণ বিরোধের কারণে চট্টগ্রাম অঞ্চলে বিভিন্ন ধরনের সহিংসতা ও বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি হচ্ছে। সামগ্রিকভাবে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে ব্যর্থতার দায় সরকারকেই নিতে হবে
বৈঠকে জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় মজলিসে শূরা সদস্য ও চট্টগ্রাম মহানগরীর অ্যাসিস্ট্যান্ট সেক্রেটারি অধ্যক্ষ মাওলানা খাইরুল বাশার, মোহাম্মদ উল্লাহ, ফয়সল মুহাম্মদ ইউনুস, মোরশেদুল ইসলাম চৌধুরী, সাংগঠনিক সম্পাদক ডা. একেএম ফজলুল হক, ডা. সিদ্দিকুর রহমান, কর্মপরিষদ সদস্য আবু হেনা মোস্তফা কামাল, হামেদ হাসান ইলাহী, অধ্যাপক মুহাম্মদ নুর, আমির হোসাইন, অধ্যক্ষ মাওলানা জাকের হোসাইন, মাহমুদুল আলম, ফখরে জাহান সিরাজী সবুজ, অধ্যাপক মুহাম্মদ সাইফুল্লাহ, ফারুকে আজম, অধ্যাপক মুহাম্মদ নুরুন্নবী, মুহাম্মদ ইসমাইল, ড. আ. ম. ম. মাসরুর হোসাইন উপস্থিত ছিলেন।